আমলকীর পুষ্টিগুণ

 
আমলকী এক প্রকার ভেষজ ফল। সংস্কৃত ভাষায় এর নাম আমালিকা। ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ একটি ফলের নাম আমলকী। বছরের এ সময়টাতে বাজারজুড়ে দেখা মেলে এ ফলের। ছোট্ট উজ্জ্বল সবুজ এ ফলটি গুণে মানে মোটেই ছোট নয়। বরং রয়েছে নানা রকম পুষ্টিগুণ। এর ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা যেতে পারে। আমলকীতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। পুষ্টিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমলকীতে পেয়ারা ও কাগজি লেবুর চেয়ে বশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। এমনকি আমলকীতে কমলালেবু, আপেল, আম, কলার থেকে বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। এ সময় নিয়মিত আমলকী খাবার বিষয়ে তাই গুরুত্ব প্রদান করেন পুষ্টিবিদরা। আমলকী চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। চুলের খুসকির সমস্যা দূর করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে। আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। আমলকী গুঁড়া এসিডিটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করে। খাবারের সঙ্গে আমলকীর আচার হজমে সাহায্য করে। আমলকীর রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ, চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়। প্রতিদিন আমলকীর রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে। আমলকীর টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়িয়ে তোলে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে আমলকী এবং মানসিক চাপ কমায়। রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। রক্তে চর্বির পরিমাণ কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

চুল পেকে যাওয়া সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করতে পারেন আমলকীর তেল। চুলের আগা ফেটে যাওয়া, পেকে যাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনতে আমলকী ভীষণ কার্যকর। আমলকীতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ থাকে, যা চুলে খুশকি, উকুনের মতো একাধিক সমস্যার প্রতিরোধ করে। এ জন্য দুই ভাগ করে আমলকী কেটে নিয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। শুকিয়ে যাওয়া আমলকীগুলোকে ভালোভাবে গুঁড়ো করে তেলের সঙ্গে মেশান। এবার আমলকী তেলকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে গরম করুন। মাসে দু’বার করে ব্যবহার করলে বেশ উপকার পাবেন। বছরের এ সময়ে চুলে পুষ্টি এবং চুলকে শক্তিশালী করতে আমলকীর বিকল্প কিছু নেই। আমলকী চুলের কন্ডিশনার হিসেবে বেশ কাজ করে এ ফলটি। ফলে চুল হয়ে ওঠে চকচকে আর আকর্ষণীয়। মাথার ত্বক পরিস্কার করার জন্য আমলা রস খুবই চমৎকার। এটি মাথার ত্বক এবং চুল চকচকে করে তোলে। আয়ুর্বেদ মতে, অতিরিক্ত চুল পড়া রোধ করতে আমলকীর ভূমিকা অপরিসীম। আমলকীর রস ত্বক এবং চুল উভয়ের জন্য একটি উপকারী টনিক হিসেবে কাজ করে। এটি চুলকে শক্তিশালী করে তোলে। আমলকী শরীরের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবেও ভালো কাজ করে। নিয়মিত আমলকী ব্যবহারে চুল প্রাকৃতিকভাবেই অনেক সুন্দর এবং ঝলমলে হয়ে ওঠে। আমলকী চুলের শুস্কতা প্রতিরোধ করে এবং আর্দ্রতা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। শুকনো আমলকীর গুঁড়ো সামান্য কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে দিয়ে তারপর সেই মিশ্রণটি পুরো চুলে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে আধা থেকে ১ ঘণ্টা রাখতে হবে। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে দ্রুত চুলের বৃদ্ধি হবে, আর্দ্রতা বজায় থাকবে, চুল হবে মসৃণ এবং উজ্জ্বল।

Leave a comment